আজকের ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনে আমরা সবাই কমবেশি মানসিক চাপে ভুগি। তবে স্বাভাবিক দুশ্চিন্তা আর মানসিক সমস্যার মধ্যে তফাৎ রয়েছে। অনেক সময় ছোটখাটো উদ্বেগ বা অস্থিরতাকে আমরা গুরুত্ব দিই না, কিন্তু এগুলোই পরে বড় ধরনের মানসিক সমস্যার লক্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
মানসিক রোগ শুধু একজনের মনের উপর নয়, বরং তার দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্ক, পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র সবকিছুকেই প্রভাবিত করে। তাই সময়মতো লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি।
ঢাকার নিরাময় হাসপাতাল বহু বছর ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ও দক্ষতার সাথে কাজ করে আসছে। এখানে রয়েছে অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং রোগী-বন্ধব পরিবেশ। আপনি বা আপনার প্রিয়জন যদি মানসিক রোগের লক্ষণ অনুভব করেন, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
সহজ ভাষায়, মানসিক সমস্যা বলতে বোঝায় এমন এক অবস্থা যেখানে মানুষের চিন্তাভাবনা, আবেগ ও আচরণে নেতিবাচক পরিবর্তন আসে এবং তা তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে। এটি অল্প সময়ের জন্য হতে পারে, আবার কখনো কখনো দীর্ঘদিন স্থায়ীও হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগে স্বাভাবিকভাবে একটু দুশ্চিন্তায় থাকে। এটি প্রাকৃতিক এবং প্রয়োজনীয়ও। কিন্তু যদি এই দুশ্চিন্তা এতটাই বেড়ে যায় যে সে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে না পারে, ঘুমাতে না পারে বা শরীরে অসুস্থতা বোধ করে তাহলেই এটি মানসিক সমস্যার লক্ষণ হিসেবে ধরা হবে।
মানসিক সমস্যার কিছু লক্ষণ সহজেই বোঝা যায়, আবার কিছু লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
মানসিক সমস্যার এই সাধারণ লক্ষণগুলোকে যদি সময়মতো চিহ্নিত না করা হয়, তবে সেগুলো ধীরে ধীরে আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ছোটখাটো উদ্বেগ যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তবে তা পরবর্তীতে মারাত্মক অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে রূপ নিতে পারে।
আবার, অনিদ্রা বা ক্ষুধামান্দ্য যদি অব্যাহত থাকে, তবে শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা নষ্ট হয়ে শারীরিক রোগও দেখা দিতে পারে। তাই প্রথম ধাপেই পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর।
প্রতিটি মানসিক রোগের আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। নিচে কয়েকটি সাধারণ মানসিক রোগের লক্ষণ উল্লেখ করা হলোঃ
ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা হলো সবচেয়ে প্রচলিত মানসিক সমস্যাগুলোর একটি। এর লক্ষণগুলির মধ্যে থাকে সবকিছুর প্রতি অনাগ্রহ, দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকা, ক্ষুধা ও ঘুমের পরিবর্তন এবং কখনো কখনো আত্মহত্যার চিন্তাও আসে।
সবকিছু নিয়েই অযথা ভয় পাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট, হাত-পা ঘেমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত অস্থিরতা অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে প্রধান লক্ষণ।
কখনো অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস, শক্তি ও আনন্দে ভরা থাকা, আবার কখনো তীব্র হতাশা ও উদাসীনতায় ডুবে যাওয়া। এই দুই চরম অবস্থার অদলবদল বাইপোলার ডিসঅর্ডারের লক্ষণ।
এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায়শই অদ্ভুত কণ্ঠ শুনতে পান, ভিন্নধর্মী বিভ্রান্তিকর চিন্তা করেন এবং বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্ক হারিয়ে ফেলেন।
হাত বারবার ধোয়া, দরজা একাধিকবার চেক করা বা অকারণে একই কাজ পুনরাবৃত্তি করার প্রবণতা ওসিডির লক্ষণ।
মানসিক সমস্যার কোনো একক কারণ নেই। বিভিন্ন শারীরিক, সামাজিক ও পরিবেশগত কারণ মিলেই এই সমস্যা তৈরি হয়।
কেউ মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন পারিবারিক জিনগত প্রভাবের কারণে। আবার দুর্ঘটনা, শারীরিক অসুস্থতা, হরমোনের ইমব্যালেন্স বা শৈশবে ঘটে যাওয়া ট্রমাটিক অভিজ্ঞতাও মানসিক সমস্যার জন্ম দিতে পারে। এছাড়াও বেকারত্ব, অর্থনৈতিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা অতিরিক্ত কাজের চাপ মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর একটি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি আটজন মানুষের একজন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এ থেকে বুঝা যায়, এই সমস্যা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। এছাড়া ২০২১ সালের একটি জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়ষ্কদের মধ্যে প্রায় ১৮.৭% মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, অথচ এর মধ্যে মাত্র অল্প সংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নেন।
আমরা শারিরীক সমস্যাকে যতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখি মানসিক সমস্যাকে ঠিক ততটাই উপেক্ষা করি। শারিরীক আঘাত পেলে কিংবা শারিরীক অসুস্থতা বোধ করলে ডাক্তারের সরণাপন্ন হই। কিন্তু মানসিক সমস্যায় ভুঘলে সেটাকে অবহেলা করে যাই।
মানসিক সমস্যার লক্ষণ যদি আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মকে প্রভাবিত করে, তাহলে আর দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। বিশেষ করে যদি ঘুম না হয়, ক্ষুধা কমে যায়, আত্মহত্যার চিন্তা আসে বা সম্পর্ক ও কাজের জগতে মারাত্মক প্রভাব পড়ে, তবে বিশেষজ্ঞ মনোরোগ চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া জরুরি।
ঢাকার নিরাময় হাসপাতাল এ বিষয়ে একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। এখানে রয়েছেন অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, উন্নত থেরাপি ও চিকিৎসা পদ্ধতি এবং এমন একটি পরিবেশ যা রোগীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। গোপনীয়তা রক্ষায় হাসপাতালটি অত্যন্ত যত্নশীল, ফলে রোগীরা নিশ্চিন্তে নিরাময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেন।
মানসিক সমস্যার সমাধান নির্ভর করে রোগের ধরন ও মাত্রার উপর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থেরাপি এবং ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সঠিক চিকিৎসা ও ধৈর্য ধরে এগিয়ে গেলে মানসিক সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব। বিশ্বের বহু সফল মানুষ মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন এবং চিকিৎসা নিয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। তাই মানসিক অসুস্থতাকে জীবনের শেষ মনে না করে বরং এটি নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। এক্ষেত্রে নিরাময় হাসপাতাল আপনাকে সহযোগিতা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
মানসিক সমস্যা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও কিছু নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। নিয়মিত ঘুম ও ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, কাজের চাপ কমানো, পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো, প্রয়োজনে কাউন্সেলিং নেওয়া এসব অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নিজের সমস্যাকে স্বীকার করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে লজ্জা বা সংকোচ না করে খোলামেলা আলোচনা করাই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
মানসিক সমস্যার লক্ষণ কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো সমস্যার সমাধান করলে জীবন আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে পারে। মনে রাখবেন, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
আপনি বা আপনার প্রিয়জন যদি মানসিক রোগের লক্ষণ অনুভব করেন, তবে দ্বিধা না করে আজই যোগাযোগ করুন নিরাময় হাসপাতাল, ঢাকা-র সাথে। এখানে রয়েছে সঠিক চিকিৎসা, অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং আপনার পাশে থেকে নতুন জীবন শুরু করার সহায়ক হাত।